বাংলাদেশ বিমান বাহিনী জাদুঘর

0
3

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী জাদুঘর:-

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে সংরক্ষণের জন্য বিমান বাহিনী যাদুঘরের প্রতিষ্ঠা করা হয়। মুলত জাদুঘরটি ১৭ জুন,১৯৮৭ সালে স্থাপিত।পরবর্তিতে আধুনিকভাবে ২০১৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর এই বিমান জাদুঘরটি উদ্বোধন করেন এয়ার মার্শাল এনামুল বারী এবং জাদুঘরটি ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৪ সালে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মু্ক্ত করা হয়। এটিই বাংলাদেশের প্রথম বিমান জাদুঘর যা অবস্থিত ঢাকার আগারগাঁওয়ে।

জাদুঘরটির পূর্বে রয়েছে তেঁজগাও বিমান বন্দরের সুবিশাল রানওয়ে ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশার।পশ্চিমে আইডিবি ভবন।

শিশুদের বিনোদনের পাশাপাশি বড়দের জন্যও রয়েছে বিনোদন কাটানোর জায়গা।

বিভিন্ন সময়ের হেলিকপ্টার ও বিমান দিয়েই এই জাদুঘরটি সাজানো হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেঃ

১)  বলাকাঃ বলাকা বাংলাদেশের প্রথম যাত্রীবাহী বিমান। রাশিয়ার তৈরি এই বিমানটি বাংলাদেশে আসে ১৯৫৮ সালে।

২) এয়ার টুওরারঃ ট্রেইনিংয়ে জন্য এই বিমান ব্যবহার করা হয়। ১৯৯৭ সালে নিউজিল্যান্ডের তৈরি এই বিমান বাংলাদেশ বিমান বাহিনিতে যোগ হয়।

৩) পিটি-৬ঃ ১৯৮৫ সালে চিনের তৈরি এই বিমানটি বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে যুক্ত হয়।

৪) ফুগাসি এম-১৭০ঃ ফ্রান্সে ১৯৬০ সালে তৈরি করা এই বিমানটি। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে যুক্ত হয় ১৯৯৭ সালে।

৫) গ্লাইডারঃ বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আকাশ অভিজ্ঞতার জন্য জার্মানির দেওয়া এই বিমানটি বাংলাদেশে আনা হয় ১৯৮২ সালে।

৬) এয়ারটেক কানাডিয়ান ডিএইচ ৩/১০০০ঃ কানাডার তৈরি এই বোমারু বিমানটি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম সুমদ্র বন্দরে সফল অভিযান পরিচালনা করে।

৭) হান্টার বিমানঃ মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত বাংলাদেশকে ভূমি শত্রু থেকে রক্ষা করতে এই বিমানটি ব্যবহার করে। ভারতীয় বিমানবাহিনী বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে এই বিমানটি উপহার দেয়।

এছাড়াও আছে এফটি-৫, মিগ-২১, জি নাট, এফ৬, এ৫-১১১।

বিমান ছাড়াও জাদুঘরের ভিতর রয়েছে সুবিশাল জায়গা ,যেখানে রয়েছে ফুলের বাগান, ডলপিনসহ পানির ফোয়ারা, বাঘ, হরিণসহ আরো অনেক প্রতিকৃতি যেখানে শিশুরা এগুলোতে চড়ে আনন্দ পায়।

সংরক্ষিত বিমানগুলোর ভিতর দেখতে এবং চড়তে পাবার সুযোগ আছে মাত্র ৩০টাকার বিনিময়ে।

শিশুদের বিনোদনের জন্য জাদুঘরের উত্তর পাশে নির্মান করা হয়েছে স্কাই পার্ক (চিলড্রেন পার্ক)।

স্কাই পার্কের ভিতর রয়েছে আরো বিনোদন কেন্দ্র। রয়েছে রেলগাড়ী যেখানে শুধু শিশুরাই চড়ে না ,বড়রাও সংগীহয় ছোটদের। আছে একটি লেক যার মধ্যে নৌকায় চড়ার সুযোগ আছে। তবে প্রতিটা রাইডে আলাদা আলাদা টিকিট লাগবে ,যার মূল্য ৩০টাকা।

স্কাই পার্কের মধ্যেও রয়েছে বিশাল বিশাল প্রাণীর প্রতিকৃতি যার মধ্যে জিরাফ, হরিণ, ভালুক, ঘোড়া, খরগোস, সিংহসহ  নানান রকম পশু-পাখির প্রতিকৃতি। দেখে মনে হবে কোন জঙ্গলে আছি।

ঢাকার ভিতর বাচ্চাসহ বড়দের সময় কাটানোর অন্যতম জায়গা এটি।

এবার যেনে নেওয়া যাক যাদুঘরের সময়সূচীঃ

সোমবার – বৃহস্পতিবারঃ দুপুর ২.০০টা –রাত ৮.০০টা

শুক্রবার – শনিবারঃ সকাল ১০.০০টা – রাত ৮.০০টা

রবিবার সাপ্তাহিক ছুটি।

জাদুঘরের প্রবেশ মূল্যঃ জনপ্রতি ২০টাকা

এছাড়া ভিতরের বিভিন্ন রাইডের মুল্য আলাদা।

প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থী ঘুরতে আসে এখানে , কাটিয়ে যায় তাদের অবসর সময়টুকু। যানজট মুক্ত ও গাড়ীর শব্দমুক্ত ভিতরটা ,তবে শিশুদেরসহ লোকজনের কোলাহল ভর্তি। এখানে পাবেন নির্মল বায়ু।

ঘুরে আসতে পারেন বিমান বাহিনীর জাদুঘরে ,জানতে পারবেন বাংলাদেশের বিমানের ইতিহাস ও ঐতিহ্য।

 

Content Protection by DMCA.com
SHARE
Previous articleall
Next articleearn money

LEAVE A REPLY