মহাজাগতিক ঝাড়বাতি র খোঁজ মিলল মহাকাশে!

0
1

এই হাজার হাজার আলোর ‘ঝাড়বাতি’টা রয়েছে আমাদের থেকে ৫০ লক্ষ আলোকবর্ষ দূরে। তার মানে, পৃথিবীতে মানুষ বা তার আদিপুরুষের জন্মের আগেই জন্ম হয়েছিল এই বিরল পালসারটির।

যা আদতে একটি নিউট্রন স্টারও বটে। মঙ্গলবার এই সাড়াজাগানো গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল ‘সায়েন্স’-এ। ওই আন্তর্জাতিক গবেষকদলে রয়েছেন এক জন বাঙালি সহযোগী গবেষকও। জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞান বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়।

 

সান ডিয়েগো থেকে টেলিফোনে সহযোগী গবেষক, জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞান বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘‘এই পালসারটির আবিষ্কার ব্রহ্মাণ্ডে উজ্জ্বলতম পালসারের ইতিহাসে একটি নতুন রেকর্ড গড়ল। এর আগে ব্রহ্মাণ্ডের উজ্জ্বলতম পালসারটি ছিল ‘এম-৮২-এক্স-২’। যা রয়েছে আমাদের থেকে অনেক অনেক দূরে, এক কোটি ২০ লক্ষ আলোকবর্ষ দূরত্বে।

ভারতের ‘অ্যাস্ট্রোস্যাট’ উপগ্রহের সায়েন্স অপারেশনের প্রধান, পুণের ‘আয়ুকা’র জ্যোতির্বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য বলছেন, ‘‘এটা নিঃসন্দেহে একটা অভিনব আবিষ্কার। কারণ, ১৯৬৭ সালে প্রথম পালসার আবিষ্কারের পর থেকেই তত্বগত ভাবে এমন পালসারের অস্তিত্বের মোটামুটি একটা ধারণা ছিল জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের। কিন্তু এমন পালসারের খোঁজ মিলছিল না কিছুতেই।

অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ঘোরে যে ‘ক্র্যাব পালসার’ (এক সেকেন্ডে ৩০ বার), তার সন্ধান পাওয়ার পর মনে হয়েছিল, ‘হোয়াইট ডোয়ার্ফ পালসার’ বোধহয় কল্পনাই। এই আবিষ্কার সেই অর্থে, প্রায় হাল ছেড়ে দেওয়া জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের বুকে বল-ভরসা জোগালো। কারণ, ‘হোয়াইট ডোয়ার্ফ পালসার’ অত জোরে ঘুরতে পারে না। আমার মনে হয়, অদূর ভবিষ্যতে এমন আরও ‘হোয়াইট ডোয়ার্ফ পালসার’-এর খোঁজ মিলবে ব্রহ্মাণ্ডে।

যে সাদা বামন নক্ষত্রটি থেকে এই পালসারটির জন্ম, তার আকার আমাদের পৃথিবীর মতো হলেও ভরে তা আমাদের গ্রহের প্রায় ২ লক্ষ গুণ বেশি। সাড়ে তিন ঘণ্টায় ওই পালসারটি পাক মারছে তার ঠাণ্ডা নক্ষত্রটিকে। সাউথ আফ্রিকান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অবজার্ভেটরির জ্যোতির্বিজ্ঞানী ডেভিড বাকলে ও ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদল এই পালসারটি আবিষ্কার করেছেন। তাঁদের গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে ‘নেচার-অ্যাস্ট্রোনমি’ জার্নালে।

 

Content Protection by DMCA.com