সই জাল হলেই ধরা পড়বে সফটওয়্যার এ

0
10

 

রবি ঠাকুরের ‘রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা’ গল্পে ‘নায়কের’ এই সাক্ষ্যই মামলার মোড় বেবাক ঘুরিয়ে দিয়েছিল। আইনজীবীরা বলছেন, ঘটনাটা এখনকার হলে কোনও হস্তাক্ষর বিশারদকে দিয়ে গুরুচরণের সই পরীক্ষা করানো হতো। মূলত তাঁর রিপোর্টের উপরে নির্ভর করত নবদ্বীপ-বরদাসুন্দরীর সম্পত্তি-ভাগ্য। কিন্তু বিশারদই যদি ভুল করে বসেন? কিংবা যদি অসৎ হন? তা হলে কি বরদাসুন্দরীর আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠিত হতে পারত?

সংশয় যথেষ্ট। যে কারণে বিজ্ঞানের অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে গোয়েন্দা-তদন্তে যন্ত্রের মতামত ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। কারণ, যন্ত্র সচরাচর ভুল করে না। তার ফলাফলে প্রভাবও খাটানো যায় না। কিন্তু হস্তাক্ষর পরীক্ষায় তেমন যন্ত্র কোথায়!

সুশান্ত মুখোপাধ্যায় ও সুব্রতকুমার মণ্ডল নামে ওই দুই ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞের গবেষণার মূল প্রতিপাদ্য— শুধু চোখে দেখায় নির্ভর না-করে হস্তাক্ষর পরীক্ষার যান্ত্রিক উপায় বার করা। সুশান্তবাবুর কথায়, ‘‘প্রত্যেকের হাতের লেখার দু’টি বিশেষত্ব। একটি একান্ত ব্যক্তিগত।

অন্যটি ছোটবেলায় শিক্ষক বা অন্য কারও কাছে রপ্ত করা। প্রত্যেকের লেখার নির্দিষ্ট ধাঁচ (প্যাটার্ন) রয়েছে।’’ ওঁরা জানাচ্ছেন, যে কারও লেখায় অক্ষরগুলোয় সামঞ্জস্য থাকে। কারও হস্তলিপির নমুনার সঙ্গে বিতর্কিত কোনও লেখাকে মিলিয়ে দেখে বলে দেওয়া সম্ভব, সেটি আসল না নকল।

এবং ‘মিলিয়ে দেখা’র কাজটা যাতে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্ভুল ভাবে করা যায়, সেই লক্ষ্যে সুশান্তবাবুরা বানিয়ে ফেলেছেন একটি সফ্টওয়্যার— ম্যাচিং ইন্ডেক্স। যার সাহায্যে কম্পিউটারই আসল-নকল ধরিয়ে দেবে বলে ওঁদের দাবি।

জার্নালে বলা হয়েছে, ২০১১ থেকে দু’বছর বিভিন্ন ‘কেস স্টাডি’ করে সুশান্তবাবু-সুব্রতবাবু ২০১৩-য় সফ্টওয়্যারটি তৈরি করেন। পরের দেড় বছরে ওঁদের সামনে নানা প্রশ্ন তুলে বিষয়টির মৌলিকত্ব ও বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করেছেন জার্নাল কর্তৃপক্ষ। তার পরে গত মাসে গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে।

 

Content Protection by DMCA.com