স্মার্টফোনটি সুরক্ষিত রাখতে করনীয়ঃ

0
3734

প্রতিদিনের জীবনে স্মার্টফোন এখন অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে উঠেছে। কেনাকাটা থেকে শুরু করে সিনেমার টিকিট বুকিং বা ট্যাক্সি বুকিংও এখন বাড়িতে বসেই করা যায় স্মার্টফোনের সৌজন্যে। সেই ফোনেই আবার সুরক্ষিত থাকে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য, লেনদেনের হিসাব। তাই সেই স্মার্টফোনকে কোনভাবেই অরক্ষিত রাখবেন না যেন। স্মার্টফোনের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ব্যবহারকারীদের জন্য জরুরি। আপনার স্মার্টফোনে ব্যাংকের হিসাব, ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের তথ্য ইত্যাদি থাকার কারণে হ্যাকারদের অন্যতম লক্ষ্য এই যন্ত্রটি। এটাকে হ্যাক করতে পারলেই আপনার সব তথ্য তাদের হাতে চলে যাবে। ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য মিলে গেলে সব টাকা উধাও করে ফেলতে পারে তারা। তাই যন্ত্রটিকে নিরাপদে রাখুন। এর জন্য বিশেষজ্ঞরা কী পরামর্শ দিচ্ছেন, তা জেনে নিন-

বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা করুণঃ

বর্ষার আভাস ইতিমধ্যেই দেখা দিয়েছে। মাঝে মাঝেই কোথাও কোথাও বৃষ্টি তার উপস্থিতি টের পাইয়ে দিচ্ছে। এই সময় সঙ্গে ছাতা না রাখলেই বিপত্তি। শুধুই কি আর শরীরের জন্য? বৃষ্টিতে ভিজে বিপত্তি হওয়ার চিন্তাটা অন্য জায়গাতে বেশি। কারণ, এখন সবার হাতেই হাই-ফাই সমস্ত স্মার্টফোন। আর বৃষ্টি তো স্মার্টফোনের সবচেয়ে বড় শত্রু। বৃষ্টির মরশুমে রাস্তায় বেরোনোর সময় সবসময় একটি প্লাস্টিকের প্যাকেট কিংবা জিপলক পাউচ সঙ্গে রাখুন। বাজারে এখন বিভিন্ন দামেই এই জিপলক পাউচ কিনতে পাওয়া যায়। খুব বেশি খরচ হবে না। আর এই পাউচের মধ্যে আপনার স্মার্টফোনটি একেবারে সুরক্ষিত থাকবে।

সবার আগে এনক্রিপশনঃ

অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ফোনের সব তথ্য এনক্রিপ্ট করার সুযোগ দেয়। যন্ত্রটি প্রতিবার চালু করার সময় একটি পাসওয়ার্ড লাগে সব তথ্য ডিক্রিপ্ট করতে। কাজটি বিরক্তিকর ও সময় সাপেক্ষ মনে হতে পারে। কিন্তু হ্যাকাররা যখন আপনার ফোনে ঢুঁ মারবে, তখন বুঝবেন কতটা নিরাপত্তা দিয়েছে এনক্রিপশন সিস্টেম।

লকস্ক্রিনে ব্যবহার করুন পিন বা প্যাটার্নঃ

ফোনের স্ক্রিন কখনই ‘আনলকড’ অবস্থায় রাখবেন না। কারণ অন্য কেউ আপনার ফোনের গ্যালারি বা স্টোরেজ দেখুক, নিশ্চয় আপনি সেটা চাইবেন না। তাই ফোনের লকস্ক্রিনে অবশ্যই কোন পাসওয়ার্ড দিয়ে সুরক্ষিত রাখুন। দেখবেন, খুব সহজ পাসওয়ার্ড বা প্যাটার্ন ‘লক’ দেবেন না যেন। নামের পরে ১২৩ বা নিজের জন্মদিনের তারিখ দিয়ে পাসওয়ার্ড সেট করলে কিন্তু সেটা সহজেই খুলে ফেলা যায়।

একটি অ্যান্টি-ভাইরাস রাখুনঃ

যদি ওয়েবসাইট ব্রাউজ করেন এবং বিভিন্ন ফাইল ডাউনলোড করেন, তবে একটি ভালো মানের অ্যান্টি-ভাইরাস ডাউনলোড করে নিন। এটি আপনাকে অনেক বিপদ থেকে বাঁচাবে। বিশেষ করে যদি সামান্য অর্থ ব্যয় করে নর্টন বা কারপারস্কি ব্যবহার করেন, তবে সব ধরনের ভাইরাস থেকে আপনি নিরাপদে থাকবেন।

অচেনা উৎস থেকে অ্যাপ নয়ঃ

গুগল প্লে এবং অ্যাপল অ্যাপ স্টোরস থেকে যাবতীয় অ্যাপ এবং গেম ডাউনলোড করুন। অ্যাপ ডাউনলোড করার অসংখ্য উৎস রয়েছে। এসব জায়গা থেকে অ্যাপ নেবেন না। তাহলে সহজেই ম্যালওয়্যার প্রবেশ করবে আপনার ফোনে। আর সেখানেই হ্যাকারদের কারসাজি।

ডাউনলোডের আগে সাবধানঃ

গুগল প্লে স্টোরের মতো কোন বিশ্বাসযোগ্য সাইট থেকেই অ্যাপ ডাউনলোড করুন। অবশ্যই প্রাইভেসি পলিসি চেক করে অ্যাপ ডাউনলোড করুন। অনেক স্মার্টফোনে বিশ্বাসযোগ্য সাইট থেকে অ্যাপ ইনস্টল করা বন্ধ করা থাকে। অনেকেই সেটা ম্যানুয়ালি ‘অন’ করে দেন। সেক্ষেত্রে কিন্তু অতিরিক্ত সতকর্তা অবলম্বন করুন।

অ্যাপ পারমিশন এড়িয়ে যাবেন নাঃ

জ্ঞানের মতো শোনালেও অনেকেই অ্যাপ পারমিশন মন দিয়ে পড়েন না। কোনও অ্যাপ ডাউনলোড করে ‘রান’ করানোর আগে দেখুন অ্যাপটি আপনার ফোনে কোন কোন পারমিশন চাইছে।

আপ-টু-ডেট থাকুনঃ

অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণে বিভিন্ন সময় আপডেট আসতেই থাকে। স্মার্টফোনের সব সফটওয়্যারের যে আপ-টু-ডেট আসে তা ইনস্টল করে নিন। পুরনো সংস্করণ হ্যাকারদের আক্রমণের কাছে দুর্বল হয়ে পড়ে। কোনো নিরাপদ ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে আপ-টু-ডেট থাকার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

অচেনা ওয়াই-ফাই ব্যবহার নয়ঃ

প্রযুক্তির যন্ত্রের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে যারা কাজ করেন, তারা সবাইকে সাবধান করে দেন। অচেনা কোনো ওয়াই-ফাই ব্যবহার করবেন না। এমনকি পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবস্থাতেও যথেষ্ট ফাঁক থাকে। এগুলো গলে সহজেই প্রবেশ করে হ্যাকাররা। কেবল নিজের ওয়াই-ফাই ব্যবহার করুন।

অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস ম্যানেজার ডাউনলোড করতে ভুলবেন নাঃ

স্মার্টফোন হারিয়ে গেলে খুঁজে পেতে সাহায্য করবে অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস ম্যানেজার। তাই এই দরকারি অ্যাপটি নতুন স্মার্টফোনে ডাউনলোড করতে ভুলবেন না।

গুগল অথেনটিকেশন মেনে চলুনঃ

গুগলের অ্যাপে টু স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু করুন। এর ফলে আপনার জি-মেলের পাসওয়ার্ড জানলেও যতক্ষণ না ওটিপি আসছে, কেউ আপনার অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন না। অন্য কেউ আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট হ্যাক করলে আপনার ফোনে মেসেজ চলে আসবে।

ফোনে রাখুন অ্যান্টি-ভাইরাস অ্যাপঃ

সাধের স্মার্টফোনে একটি অ্যান্টি-ভাইরাস অ্যাপ রাখতে ভুলবেন না যেন। গুগলে অনেক ফ্রি অ্যান্টি-ভাইরাস অ্যাপ রয়েছে। পকেটে পয়সা থাকলে বাজার থেকে যে কোনও একটি স্মার্টফোন ফ্রেন্ডলি অ্যান্টি-ভাইরাস অ্যাপও কিনে ফেলতে পারেন।

ব্লু-টুথ নিয়েও সাবধানঃ

ওয়াই-ফাইয়ের মতোই ব্লু-টুথও কাজ মিটে গেলে অফ করে দিন। কারণ, ব্লু-টুথের মাধ্যমেও আপনি হ্যাকারদের টার্গেট হতে পারেন।

ডিভাইস রুট করবেন নাঃ

ভুলেও স্মার্টফোনকে ‘রুট’ করবেন না। রুটিংয়ের কয়েকটি লাভ থাকলেও এর ফলে আপনার স্মার্টফোনে ম্যালওয়্যার ঢুকতে পারে।

Content Protection by DMCA.com